সাড়ে চার বছর পেরিয়ে যখন পাঁচ বছর পূর্ণ করতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার, সেই সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ফিরে দেখতে চাইলেন তাঁদের বামফ্রন্ট সরকারের প্রথম পাঁচ বছরটাকে (১৯৭৭-৮২) ৷ ২০১৬তেই আবার রাজ্যে বিধানসভা ভোট ৷বলা চলে মমতা সরকারের প্রথম পাঁচ বছরে রাজ্যের অবস্থার সঙ্গে বামফ্রন্ট জমানার প্রথম পাঁচ বছরকে তুলনা টানতেই  যেন এই বইটির প্রকাশ ৷ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর ‘ফিরে দেখা’ পড়ে দেখলেন সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়

‘হ্যাঁ,  দুর্ভাগ্যজনক একটা ঘটনা ঘটেছে৷ পুলিশ এক জায়গায় গুলি চালিয়েছে  তবে শ’য়ে শ’য়ে নয়, যে  বিভ্রান্তিকর অসত্য কথা বিরোধী নেতা বলছেন ৭৭ জন গুলিতে মারা গেছেন তাও নয়৷ মারা গেছেন ২ জন আর কয়েকজন আহত হয়েছেন৷’’

বাম আমলের গুলি চালানো সম্পর্কে এ মন্তব্য স্বয়ং জ্যোতি বসুর৷ আর এতদিন পর সে কথা যিনি তুলে আনলেন তিনি তাঁর উত্তরসূরি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য৷ তাঁর ‘ফিরে দেখা’ বইয়ের পাতায় বাম আমলের গোড়ার দিকের এরকমই অনেক প্রায় বিস্মৃত ঘটনা উঠে এসেছে৷ বাম আমলে গুলি চালানোর কথা বললেই স্মৃতিতে টাটকা ২০০৭ সালের ১৪ মার্চের ঘটনা৷ নন্দীগ্রামে পুলিশের গুলিতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আর ওই ঘটনাই বলা চলে বামফ্রন্ট সরকারের মৃত্যুঘণ্টাও বাজিয়েছিল৷ যার ফল পাওয়া গিয়েছিল বছর চারেক বাদে৷ ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে৷ কিন্তু আজ হয়ত অনেকেরই অজানা যে,  বামফ্রন্ট জমানার প্রথম পাঁচ বছরেই বেশ কয়েকবার গুলি চলেছিল৷ ওই সময়টাকে ফিরে দেখতে গিয়ে তা উঠে এসেছে তৎকালীন রাজ্যের তথ্য-সংস্কৃতিমন্ত্রী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের লেখায় ৷ তবে সেই ঘটনা প্রসঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির ভূমিকা ও বাজারি সংবাদপত্রের সমালোচনা করছেন৷ সম্প্রতি তাঁর লেখা ‘ফিরে দেখা’ বইটিতে ‘ঘটনা এবং রটনা’ নামে একটি অধ্যায় রয়েছে ৷ অর্থাৎ যা ঘটেছে তার চেয়ে অনেক বেশি রটেছিল বলেই ব্যাখ্যা দিতে চেয়েছেন লেখক ৷ ওই অধ্যায়ে উল্লেখ রয়েছে মরিচঝাঁপিতে উদ্বাস্তুদের উপর অত্যাচার, বিজনসেতুতে আনন্দমার্গীদের উপর আক্রমণ এবং ১৯৮১ সালের ৩১ মার্চ কংগ্রেসের বিধানসভা অভিযানে কথা৷ তবে এই সব ঘটনায় পুলিশের গুলি চলেছিল এবং তার জেরে অনেকের না হলেও কয়েকজনের মৃত্যু যে হয়েছিল তা তিনি স্বীকার করেও নিয়েছেন৷

buddho‘ফিরে দেখা’ বইটিতে লেখক ব্যাখ্যা করেছেন, মরিচঝাঁপির ঘটনাকে কেন্দ্র করে তখন জনতাপার্টি এবং কংগ্রেস বিধানসভা কেমন উত্তপ্ত করেছিল৷ তখন বিরোধী দলনেতা কাশীকান্ত মৈত্র অভিযোগ করেছিলেন মরিচঝাঁপিতে পুলিশের গুলিতে অন্তত ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ যদিও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর জবাব ছিল, সেখানে পুলিশের গুলিতে মাত্র দুজনের মৃত্যু হয়েছিল৷ অর্থাৎ গুলিতে মৃতের সংখ্যাটা অনাবশ্যক ভাবে বিরোধীরা বাড়িয়ে দেখাতে চেয়েছিল৷ তাছাড়া তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর যুক্তি ছিল উদ্বাস্তু সমস্যার সমাধানে বিধান রায়ের সরকার ব্যর্থ হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে এবং ওইসময় কেউ যড়যন্ত্র করে একদল উদ্বাস্তু পরিবারকে ভুল বুঝিয়ে সুন্দরবনে পাঠিয়েছিল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যই৷ শুধু তাই নয় লেখক উল্লেখ করেছেন, এই ক্ষেত্রে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোরারজী দেশাই তারই দলের লোক হলেও বিরোধী দলনেতা কাশীকান্ত মৈত্রকে সমর্থন করেননি বরং ভর্ৎসনা করে বাম সরকারেই পাশে দাঁড়িয়েছিলেন৷
অন্যদিকে আনন্দমার্গীদের সঙ্গে বামফ্রন্টের যে সম্পর্ক ভাল ছিল না তা জানাতেও দ্বিধা করেননি লেখক বুদ্ধদেব৷ বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে আনন্দমার্গীরা ঢাল তরোয়াল মড়ার খুলি নিয়ে মিছিল করতে চাইলে তাঁরা তার অনুমতি দিতেন না৷ সেইরকম ১৯৮২ সালের ৩০ এপ্রিল আনন্দমার্গীদের মিছিল বিজন সেতুতে এলে গোলমাল বেধেছিল৷ তখন সেখানে আগুনে পুড়ে ১৭ জন আনন্দমার্গী পুড়ে মারা যান৷ যদিও কেন কীভাবে পুড়ে মারা গিয়েছিল তার কোনও ব্যাখ্যা তিনি দেননি৷ শুধু জানিয়েছেন বিচার শুরু হলেও আনন্দমার্গীরা আদালতে সাক্ষ্য প্রমাণ দিতে অস্বীকার করায় ওই মামলার সুরাহা হয়নি৷ আবার সেই সময়কার ইন্দিরা কংগ্রেসের সভাপতি অজিত পাঁজা এবং দুই বর্ষীয়ান নেতা অশোক সেন ও ভোলা সেনের উপস্থিতিতে ১৯৮১ সালের ৩১ মার্চ বিধানসভা অভিযানের নামে রাস্তা জুড়ে তান্ডব শুরু হয়৷ এই মিছিল থেকে বোমাও ছোড়া হতে থাকলে তাদের শান্ত করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও গুলি চালায়৷ লেখক জানিয়েছেন ওইদিন তিনজনের মৃত্যু হলেও একজনের পুলিশের গুলিতে এবং বাকি দুজনের কংগ্রেসের ছোঁড়া বোমার আঘাতে মৃত্যু হয়েছিল৷ এই ঘটনার পরিপেক্ষিতে কংগ্রেস ৩ এপ্রিল বনধ ডাকে ৷ সেদিন কংগ্রেসের ছোঁড়া বোমায় কলকাতায় তিনজনের মৃত্যু হয় এবং গোটা রাজ্যে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছিল বলে বইটিতে উল্লেখ করেছেন ৷ তাছাড়া লেখক কংগ্রেসিরা কতটা গন্ডগোল করেছিল তা বোঝাতে হিসেব দিয়েছেন কতগুলি বাস-ট্রাম ভাঙচুর হয়েছিল এবং কতজন চালক ও কর্মী আহত হয়েছিলেন সেদিন৷
সাড়ে চার বছর পেরিয়ে যখন পাঁচ বছর পূর্ণ করতে চলেছে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার, সেই সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ফিরে দেখতে চাইলেন তাঁদের বামফ্রন্ট সরকারের প্রথম পাঁচ বছরটাকে (১৯৭৭-৮২) ৷ ২০১৬তেই আবার রাজ্যে বিধানসভা ভোট ৷বলা চলে মমতা সরকারের প্রথম পাঁচ বছরে রাজ্যের অবস্থার সঙ্গে বামফ্রন্ট জমানার প্রথম পাঁচ বছরকে তুলনা টানতেই  যেন এই বইটির প্রকাশ ৷ ক্ষমতায় এসে তাঁরা কেমন করে রাজবন্দীদের মুক্তি দিয়েছিলে, ক্ষমতায় এসে কেমন করেন জনগণের হাতে তা তুলে দিতে একে একে বেনামে থাকা জমি উদ্ধার, ভূমি সংস্কার পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সূচনা করেছেন৷ উল্লেখ রয়েছে ১৯৭৮ সালে ভয়াভয় বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা করার কথাও৷ তাছাড়া কেন্দ্র রাজ্য সম্পর্ক তাঁদের দল তখন কেমন উদ্যোগ নিয়েছিল সেই দিকেও আলোকপাত করতে চেয়েছেন লেখক৷ পরিশিষ্টে তুলে ধরা হয়েছে বামফ্রন্ট সরকারের ১৯৭৮-এর শিল্পনীতির দু-টি মূল অনুচ্ছেদকে৷ যার একটি হল- ক্ষুদ্র শিল্প সংস্থাকে যথোপযুক্ত অর্থ সাহায্য এবং কারিগরী পরামর্শ৷ অন্যটি ছিল নতুন কোন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানকে এ রাজ্যে ব্যবসার প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেওয়া হবে না৷ এদিকে কেমন পরিস্থিতি থেকে বাংলাকে মুক্ত করতে পালাবদল ঘটেছিল তার উল্লেখ অবশ্যই রয়েছে বইটিতে ৷ ১৯৬৭সালে কংগ্রেসকে হারাতে সক্ষম হলেও যুক্তফ্রন্ট সরকার টিকতে পারেনি৷ তারপর সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের জমানার অবসান ঘটিয়ে জ্যোতি বসু সরকার গঠন করলেন৷ লেখক কলকাতার কাশীপুর কেন্দ্র থেকে ভোটে জিতলেন এবং ডাক পড়ল মন্ত্রী হওয়ার শপথ নিতে ৷ ‘ফিরে দেখা’র ভূমিকাতেই মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজ্যে তখন সিপিএমকে কংগ্রেসের বিরোধিতার পাশাপাশি মোকাবিলা করতে হয়েছে নকশালদের এবং সিপিআই-কে ৷ কারণ ১৯৭৭ সালে সিপিআই তো ছিল কংগ্রেসের সঙ্গী৷ ফলে সেই পালাবদলের সময় বিধানসভায় জিতে আসা দু’জন সিপিআই বিধায়ককে বসতে হয়েছিল বিরোধী বেঞ্চে৷

ওই সময়কালেই যেহেতু বুদ্ধদেব ভট্টচার্যই ছিলেন রাজ্যের তথ্য ও জনসংযোগ (তথ্য ও পরে যা হয় তথ্য ও সংস্কৃতি) দফতরের মন্ত্রী৷ আর এর সুবাদে একদিকে সাংবাদিক এবং শিল্পসংস্কৃতির লোকেদের সংস্পর্ষেও তিনি এসেছিলেন৷ সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে এসে পড়েছে সত্যজিৎ রায় মৃণাল সেন, তরুণ মজুমদারদের কথা৷ City of Joy ছবির শুটিং নিয়ে জলঘোলা এবং ওই ছবির চিত্রনাট্য দেখে সত্যজিৎ রায়ের নীরবতা সরকারের অবস্থাকেই পরোক্ষ সমর্থন বলে দাবী করেছেন৷ অন্যদিকে ‘পরশুরাম’ ছবিতে মৃণাল সেন হকার তাড়াতে পুলিশি অভিযানের ছবি তুললেও তাতে তাঁদের সরকারের কোনও রকম আপত্তি করে শিল্পীর কাজে হস্তক্ষেপ করেননি বলে দাবি করেছেন ৷ তেমনই আবার মনে দিয়েছেন পূর্ববর্তী কংগ্রেস সরকার ‘গণদেবতা’ ছবিটির জন্য চুক্তি করলেও পুরো টাকা পাননি পরিচালক তরুণ মজুমদার ৷ তবে তরুণবাবুর সঙ্গে বুদ্ধদেববাবুর সাক্ষাতের পরে সিনেমাটি শেষ করার জন্য বাকি অর্থ বাম সরকার দিতে রাজি হয়েছিল৷ এই দফতরের দায়িত্ব নেওয়ার ফলে তাঁকেও যে বেশ কিছুটা সতর্ক ভাবে পা ফেলতে হয়েছিল৷ ওই সময় সমরেশ বসুর একটি উপন্যাসে সাংবাদিকের এবং বারবনিতার কাহিনি নিয়েও সমস্যা দানা বাঁধে৷ এমনকি সরকারের উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি নারায়ণ চৌধুরী উপন্যাসটি বেআইনি ঘোষণা করার প্রস্তাব দিলেও কমিটির এক প্রবীন সদস্য অবশ্য তার বিরোধিতা করেন৷ শেষমেশ অবশ্য বুদ্ধদেববাবু সভাপতির মতকে সমর্থন করেননি ৷

এদিকে সবে ক্ষমতায় আসার পরই ‘বারবধূ’ নামে একটি নাটক দেখার জন্য আমন্ত্রণ এলেও তিনি তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন৷ এরফলে আবার সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হয়েছিল শিল্পের স্বাধীনতা হস্তক্ষেপ করতে চাইছে সরকার এবং জোর buddho01করে ওই নাটকের অভিনয় বন্ধ করা হবে৷ এই নিয়ে সংস্কৃতি বনাম অপসংস্কৃতির ঝড় উঠলেও এই বইতে লেখক জানিয়েছেন তিনি ওই নাটকটিকে পছন্দ না করলেও তা বন্ধ করার কথা চিন্তা করেননি৷ এদিকে বাজারি সংবাদপত্রের মালিক সম্পর্কে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও সেই সময়কার আপামর সাংবাদিকদের পেশা সম্পর্কে গর্ব ও দায়িত্ববোধের জন্য তিনি তাঁদের প্রশংসাই করেছেন৷ তবে কাগজে বিজ্ঞাপন দেওয়ার ক্ষেত্রে কাউকে জব্দ করার মানসিকতা তাদের ছিল না বরং সংবাদপত্রের প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতেই বিজ্ঞাপন দেওয়া হত বলে তিনি দাবি করেছেন৷ তবে বসুমতী পত্রিকা অধিগ্রহণ করা হলেও পরে বুদ্ধদেববাবু উপলব্ধি করেছিলেন তা একেবারেই ভুল সিদ্ধান্ত ছিল৷

সংক্ষিপ্ত এ বইয়ে বুদ্ধদেবাবু অনেক কথাই বলেছেন৷ তবে সবই যেন তাড়াহুড়ো করে৷ যেন কিছু কথা তাকে বলে ফেলতে হবেই বলে ফেলা৷ বইয়ে অন্তর্ভুক্ত যে ঘটনাপ্রবাহ, সেই অনুযায়ী লেখক যদি আর একটু ডিটেইলসে এ সময়টিকে কলমে বন্দি করতেই পারতেন৷ শুধু তাঁর নিজের তরফে কিছু বলে রাখার দায় পূরণই নয়, ভাবীকালের  কাছে এ বই একটি তথ্যনিষ্ট ইতিহাস হয়ে উঠতে পারত৷ কিন্তু এখানেও যেন বুদ্ধদেবাবু সদিচ্ছা সত্ত্বেও ব্যর্থই হয়েছেন৷ এ বই থেকে তরুণ বামপন্থীরা তথ্য পাবেন, তাঁদের দলের হয়ে গলা ফাটানোর অনেক উপকরণ পাবেন, কিন্তু ওই ট্রানজিশন পিরিয়ডকে তেমনভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন কি না, সে সন্দেহ থেকেই যায়৷

বইয়ের মধ্যে বেশ কিছু দুর্লভ ছবি আছে৷ অনেক প্রবীণেরই স্মৃতি উসকে দিতে পারে সে সব৷ আর উল্লেখ করতে হয় মনীশ দেবের করা প্রচ্ছদটির কথা৷ সেপিয়া টোনের বাম মিছিল থেকে টকটকে লাল রঙের জমায়েতে বামেদের জার্নিটা চমৎকার তুলে এনেছেন তিনি৷

 আমাদের অপেক্ষা থাকবে বাম আমলের শেষ পাঁচ বছর নিয়ে তিনি কী লেখেন তার জন্য৷ কেননা সংস্কারের যে সূচনায় এসে তিনি এ বইয়ের ইতি টেনেছেন, সেখান থেকে আত্মসমালোচনার পর্বে পৌঁছলেই হয়ত বৃত্তটি সম্পূর্ণ হবে৷