কথার পিঠে উঠে আসে কথা৷ কথাই দিয়ে যায় নতুন কথকতার হদিস৷ ‘ছেঁড়া ঘুড়ি, রঙিন বল’ও স্মৃতির মহাফেজখানা Souvik-Bandopadhayথেকে সুতোয় জড়িয়ে টেনে আনছে নানা কথা৷ অতীত মানে নস্ট্যালজিয়া৷ অতীত মানে মনখারাপের ভালোলাগা৷ তবে শুধুই কি ভালো? সবই কি ভালো? এমন কিছু অভ্যাস,রেওয়াজ, রীতিনীতি চালু ছিল যার কুপ্রভাব থেকে আজকের দিনও মুক্ত নয়৷ অতীত নিয়ে নাড়াচাড়া করতে গেলে সে কথাও উঠে আসবে বৈকি৷ লিখলেন  শৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়

 

একালের বিয়েবাড়িতে উঁকি দিতে হলে আপনাকে কিন্তু “বিয়ে”-বাড়িতেই যেতে হবে। বাড়িতে আর বিয়ে করে না কেউ প্রায়। আমি, যথারীতি, শহর পুরো হয়ে ওঠেনি এমন মফস্‌সলের মধ্যবিত্ত বাঙালিদের বিয়ের কথাই বলছি এখানে।

 হে পাঠক (শুধু পুরুষার্থে নয় এ প্রয়োগ), আপনার শরৎচন্দ্র বা তারাশঙ্কর, দুই বিভূতিভূষণের লেখালিখির সঙ্গে নিশ্চয়ই পরিচিতি আছে। ওঁদের লেখায় এসেছে ভোজবাড়ি, বিয়েবাড়ি, সেখানের খাওয়াদাওয়ার প্রসঙ্গ। এই মুহূর্তে আমার মনে পড়ে গেল “দেবযান” উপন্যাসটির কথা। উপন্যাস শুরুই হচ্ছে গ্রামের সবচেয়ে ধনী এবং রায়সাহেব খেতাবপ্রাপ্ত কুণ্ডু মহাশয়ের মেয়ের বিয়েতে উপন্যাসের প্রধান চরিত্র যতীন নেমন্তন্ন খেতে গেছে। খাওয়ার পাট মিটতেই বাড়ির পুকুরপাড়ে কলকাতা থেকে পাত্রপক্ষ আনীত হরেক রকমের বাজি পোড়ানোর ধুম শুরু হল, যা দেখে শুনে গ্রামের লোকেদের চোখ ছানাবড়া! বাজির রোশনাইয়ে উল্লাস করবে কি, আদেখলা গাঁইয়াগুলোর একজন বলে – অয় অয় আগুন ধরে গেলো, তো আরেকজন বলে – দ্যাকো দ্যাকো আকাশ ফুঁড়ে তারা ছুঁয়ে দিল…

 গ্রামের রোজকার অন্ধকার রাত-জীবনে সে এক অপরূপ আলোর বন্যা। ও হল গিয়ে বড়লোক বাড়ির বিয়ে বলে কথা!

 এবারে একটু অন্য প্রসঙ্গে আসি। আচ্ছা বলুন তো, বড়লোক হতে চাওয়া কি অন্যায়? যেমন আছি তার থেকে আরও ভালো থাকব, আরও আরও ভালো থাকব, আরও আরও আরও ভালো থাকব – এমন চাওয়া ভুল? চাইলে যদি পাওয়া যায় তো কী করব? নেব না? মুখ ফিরিয়ে থাকব? যদি নিতেই হয়, কতদূর নেব? এ নিয়ে এই কলামে আগেও লিখেছি, একই প্রসঙ্গের পুনরুত্থান করতে চাই না, তবে প্রশ্নটা রাখলাম আরেকবার। আমায় জবাব দেবেনই বা কেন আপনি? দেবেন না একদম। কথা হচ্ছিল একালের বিয়েবাড়ি নিয়ে। সে কথাতেই আসি বরং, পাকা পাকা জ্ঞানদানন্দন (আমার বাবা বা মায়ের নাম জ্ঞানদা ভাববেন না যেন!) অবতার ছেড়ে।Dinnerখাওয়ার আগে প্রবেশ তো করুন বিয়েবাড়িতে। হ্যাঁ, ভাড়ার বাড়ি। বিয়ে বা এইরকম অনুষ্ঠানের জন্যই প্রস্তুত আপনার সেবায়। একখানা পেল্লায় গেট আবশ্যিক, যেখানে অমুক ওয়েডস তমুক, বেশিরভাগ রোমান হরফে, কখনো বাংলাতেও লেখা থাকবে। সিংহাসন থাকবে খান দুই পেল্লায়, ওই বিয়েবাড়ি ভাড়ার সঙ্গে বাই ডিফল্ট। এই সিংহাসনে বেশিক্ষণ বসবেন মূলত কনে (বিয়ের আগে) এবং নববধূ (বিয়ের পরে)। আরেকটাও সিংহাসন আলো করে থাকবেন নববর, অবশ্যই বউভাতের সন্ধেয়। এই সিংহাসনগুলোর পিছনে আবার একটা প্রতিমার চালচিত্র গোছের ব্যাপার খাড়া করা হবে। প্রবেশলগ্নের গেট এবং এই চালচিত্র গোছের দ্রব্য তৈয়ার হবে প্লাস্টিক-নির্মিত কৃত্রিম পুষ্পসম্ভারে। আর বিয়েবাড়ির সামনেটা অথবা গোটা বাড়িটাই ছাদ থেকে চুমকি-আলোর চেন ঝুলিয়ে মাত করা থাকবে। সেখানেও বিয়েবাড়ির নাম আলোয় ঝলমল করবে – “মিলন কুঠি” বা “জয় জয়ন্তী” অথবা “আনন্দমেলা” বা “মণিমালা” বা “ঋতম”।

 খাবার জায়গার ব্যবস্থা হবে একটা বড়সড় হলে। সেখানে হালকা সানাই চলতে পারে, অথবা ধুম ধাড়াক্কা গানা-বাজানা। আবার একটি ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড থাকবে দেওয়ালের এক পাশে, সেখানে সমস্ত তথ্য অক্ষরে অক্ষরে সেজে উঠবে পাশে পাশে, হাওড়া-শিয়ালদহ স্টেশনের হেন। কেমন তথ্য সেসব? এই কে কাকে বিয়ে করল বলে আপনি এই হলে বসে সাঁটাচ্ছেন কিছুমিছু, আলো কে সাজালো, ক্যাটারিং করছে কে এইসব আরকী। আর হ্যাঁ, ভিডিয়ো। বরপক্ষ, কনেপক্ষ, তৃতীয় পক্ষ থেকে কৃষ্ণ-শুক্লপক্ষ সব্বাই সেলিব্রিটি সেই সন্ধেতে। অকস্মাৎ চড়া আলো ধাঁধিয়ে দেবে আপনাকে। রেকর্ডেড হয়ে যাবে আপনার অসামান্য চর্বি ভেদ করে মাংসে দাঁত ফোটানোর মুহূর্তরা, কিম্বা ফিশফ্রাই-টুকরোটিকে সাবধানে লিপস্টিক-রাঙা ঠোঁট টপকে পার করিয়ে দেবার ক্ষণটি। কেউ আবার হঠাৎ সচেতন হয়ে যেন-কিছুই-খাচ্ছেন-না ভঙ্গি করবেন, কিন্তু পাতে ডাঁই করা উচ্ছিষ্টসকল ভিডিয়োবন্দি হয়ে যাবে। কোনও কোনও অতি সুন্দরী আবার এমন পোজ দেবেন যেন তিনি সেকালের মাধুরী বা একালের কঙ্গনা, অজস্র ফ্ল্যাশের আলোয় টানটান অভ্যস্ত, তাঁকে টলায় কার সাধ্যি? এই ভিডিয়ো সিডিতে বা পেন ড্রাইভে করে পাত্র এবং পাত্রী উভয়পক্ষেরই হাতে হাতে ঘুরবে। তুমি আমার মা আমি তোমার মেয়ে, আয় খুকু আয়, পৌষের কাছাকাছি রোদ মাখা সেই দিন, ওগো মনের দুয়ারে দাঁড়িয়ে থেকো না, আর কত রাত একা থাকব, এসো আলো এসো হে তোমায় সুস্বাগতম, কত না ভাগ্যে আমার এ জীবন ধন্য হল, পালকিতে বউ চলে যায়, ইত্যাদি কালজয়ী গানে লিপটাই শুধু মেলাবেন না কেউ, বাকি পুরো পিকচারাইজেশনই তো সকলের অত্যুজ্জ্বল উপস্থিতি, যাকে পরিভাষায় বলা হয়ে থাকে স্ক্রিন প্রেজেন্স!


আমার মনে পড়ে গেল “দেবযান” উপন্যাসটির কথা। উপন্যাস শুরুই হচ্ছে গ্রামের সবচেয়ে ধনী এবং রায়সাহেব খেতাবপ্রাপ্ত কুণ্ডু মহাশয়ের মেয়ের বিয়েতে উপন্যাসের প্রধান চরিত্র যতীন নেমন্তন্ন খেতে গেছে। খাওয়ার পাট মিটতেই বাড়ির পুকুরপাড়ে কলকাতা থেকে পাত্রপক্ষ আনীত হরেক রকমের বাজি পোড়ানোর ধুম শুরু হল, যা দেখে শুনে গ্রামের লোকেদের চোখ ছানাবড়া! বাজির রোশনাইয়ে উল্লাস করবে কি, আদেখলা গাঁইয়াগুলোর একজন বলে – অয় অয় আগুন ধরে গেলো, তো আরেকজন বলে – দ্যাকো দ্যাকো আকাশ ফুঁড়ে তারা ছুঁয়ে দিল… 


কী বললেন? আপনি এত কিছু গেট, চালচিত্র, ডিজিটাল ডিসপ্লে, ভিডিয়োর দিকে যাবেন না। হালকা সানাই বাজবে, আর আপনি সিম্পল সাদামাটা বিয়ে করবেন? কিন্তু আছে মহাশয়া/মহাশয়, অনেক “কিন্তু” আছে। নারী হলে, সে আপনি নিজেই পছন্দ করুন আপনার পুরুষটিকে বা বাড়ির দেখাশোনায়, বাড়ি রাজি মানে গোল্লায় গেল আপনার মতদানের ক্ষমতা, বিয়ে পর্যন্ত জারি হয়ে গেল সামরিক শাসন। মত যা কিছু বাকি সকলের, তারা “মেয়ে”র বিয়ে দিচ্ছে বলে কথা! আর যদি আপনি পুরুষ হন, তাহলেও বাড়ি রাজি হয়েছে মানেই আপনার মতদান সীমাবদ্ধ হয়ে গেল। অবশ্য একটি মেয়ের মতো অতটা নয় এখনও। এরপরও ঠ্যালা আছে। কেমন? আপনি বাড়াবাড়ি করতে ইচ্ছুক নন। কিন্তু আপনার মামার বা পিসির বাড়ি থেকে কথা উঠবে, এব্যাব্যা, সব করছিস খালি “এই”টা করছিস না! আপনার বন্ধু বলবে, ফোট, আমি বলে দিচ্ছি “ওই”টা লাগিয়ে দিতে। দিদি-বোন বা ভাই-দাদা বলবে সবই হচ্ছে, “সেই”টাই খালি বাদ! এটা মানতে পারছি না। প্লিজ তুমি এর মধ্যে মাথা গলিয়ো না একদম, আমি বলে দিচ্ছি।

 নিন এবার, ম্যাও সামলান।

 তালিকায় তিনটে নতুন সংযোজনের কথা বলে খেতে বসে যাব, ঠিক আছে? প্রথম হল বাজি। বাজি এখন আর উচ্চবিত্ত-ধনীদের কেনা বাঁদী নয়। মধ্যবিত্ত বাঙালিও বিয়েতে এখন ঢোল-সহরৎ করে বাজি পোড়ায়। দ্বিতীয় এবং তৃতীয়টি নেহাতই অবাঙালি প্রথা, মেহেন্দি ও সঙ্গীত। এখন কনের হাত রঞ্জিত হবেই মেহেন্দিতে। কনের সঙ্গে আরও কয়েকজনও আবদার করে রাঙিয়ে নেবে নিজেদের হাত। আর সঙ্গীত। সঙ্গীতও বেশ খাপে খাপ হয়ে জুড়ে যাচ্ছে মধ্যবিত্ত বাঙালির বিয়েতে। গ্লোবাল ভিলেজ বানানোর তাড়নায় আমাদের ঘরের মায়েরা, কাকিমা-মাসিমারা দু’কলি গেয়ে ধাঁই-ধপাধপ নেচেও নিচ্ছে, মন্দ কি বাওয়া?

 খাওয়ার জায়গায় সার সার লম্বা টেবিল আজকাল আর হয় না তেমন। চারজনের মুখোমুখি বসে খাবার টেবিলই চালু। হলের কোনও একটা পাশে আবার ওয়ান-টু-ওয়ান টেবিল গোটা চার বা পাঁচ। সদ্য দম্পতিদের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত ওগুলো। বিয়েবাড়িতে সদ্য বিবাহিতদের কদর একটু বেশি হয়েই থাকে, ও নিয়ে মান করলে চলে? সোজা কথায় আর পাঁচজন পাঁচজনকে দেখছে না, ঘেরাটোপের খোপে খোপে ঢুকে গেছে চরিত্ররা। তাই হাঁক পেড়ে “নিন, শুরু করুন” শোনার অপেক্ষায় নেই কেউ। ব্যুফেও আছে এক পাশে। আপনি তাতে যদি স্বচ্ছন্দ হন, তবে তো আপনা হাত জগন্নাথ। আপনি বিলকুল এই সমাজের কারও মুখাপেক্ষী নন।

 দেখুন একটা কথা, বিরিয়ানি কিন্তু করতেই হবে। মেয়ের, ছেলের বা নিজের – যারই হোক, বিয়ে একবার হচ্ছে, আর বিরিয়ানি হবে না? এটা মেনে নেওয়া যায় না। আর হ্যাঁ, ওই মাটন বিরিয়ানিই হোক। সঙ্গে… সঙ্গে চিকেন চাঁপ, ঠিক আছে? ভাবুন কি বদখত একটা কম্বিনেশন! হুজুগের পালে এত হাওয়া টানছে এই যুগলবন্দী, বলার নয়। বিরিয়ানি স্বয়ং একটি পূর্ণ পদ, এবং গোটাটাই শুকনোর ওপর। সঙ্গে কিছু চাখার দরকার বা শাস্ত্রমতে নিয়ম – নেই কোনওটাই। তবে আপনি চাইলে কাবাব জাতীয় কিছু চলতে পারে টুকটাক। চাঁপ জাতীয় পদ ময়দা-আটার সঙ্গে সঙ্গত করে। রুটি পরোটার সঙ্গে চাঁপ খাওয়াই দস্তুর। কিন্তু বোঝাবেন কাকে? বাঙালি বিরিয়ানি খেলেও একটু মাখার ঝোল চাই তো, অতএব মাটন বিরিয়ানির সঙ্গে চিকেন চাঁপ। স্বাস্থ্য–সচেতন বাঙালি হড়াস করে কতটা প্রোটিন গলাঃধকরণ করল দেখলেন? খানিক আগেই ফিশফ্রাইতে কামড় বসিয়েছিল। তার আগে প্রোটিন নয়, তবে যেটা খেয়েছিল সেটা সেই আটের বা নয়ের লুচি-রাধাবল্লভী-কচুরি নয়, নান। শিশু সন্যাসিনী, বেবি নান। অথবা কুলচা। এলোমেলো হয়ে গেল? সাজিয়ে দিচ্ছি, রসুন।nimontron

 বেবি নান বা কুলচা, মটর পনির বা স্টাফড পট্যাটো, ফিশ ফ্রাই বা ফিশ ব্যাটার ফ্রাই, মাটন বিরিয়ানি, চিকেন চাঁপ, মিক্সড ফ্রুট চাটনি, পাঁপড় (আর আদি অকৃত্রিম মুগের নয় কেবল, সাবুর, হরেক রঙের সেসব), রসমালাই, রসগোল্লা-সন্দেশ (আরে, পুরনো মেম্বার যে! দণ্ডবতে হই…) অথবা… পান্তুয়া আর কেউ বলে না তেমন ওকে, ওর নাম হয়ে গেছে গুলাবজামুন। প্লাস্টিক বাটিতে হাত ধোবার সাবান মেশানো উষ্ণ জল। কাপ আইসক্রিম।দইকে আর কেউ পোঁছে না, উহার দিন গিয়াছে৷

 খাঁটি বাঙালি পদ কটা খেলেন যেন? পান নিয়েছেন, রুপোলি তবকে বা নিদেন কাগজে মোড়া? উঁহু, না…

 খাবার জায়গার বাইরে, বিয়েবাড়ির প্রবেশ পথ জুড়েই তৈরি হয় খান দুই-তিন স্টল। কীসের? একটিতে দেদার মেশিন-নির্মিত চা বা কফি, সঙ্গে মাংস বা মাছের ছাঁটছুঁট দিয়ে গড়া গালভরা পকোড়া। আরেকটিতে অঢেল ফুচকা। নিন, অ্যাপেটাইজার মনে করে দনাদ্দন মেরে দিন পকোড়া-ফুচকা। চোঁয়া অম্বলে যখন বাঙালি পেট টইটই, এর সঙ্গে তার সঙ্গে হ্যাহ্যাহিহি মিটিয়ে সকলের একান্ত অনুরোধ এবং উপরোধে বাধ্য হয়ে আপনি, নিমরাজি, খেতে বসে মারুন না যত খুশি রাজা উজির। খেয়ে বেরিয়ে আপনি চলে যান তিন নম্বর স্টলে। আপনার জন্য ওখানে অপেক্ষা করে আছে হরেক পান এবং মশলা-যোয়ান-জলজিরা ইত্যাদিরা। আপনি যেমন বলবেন তেমন পাবেন।

 কথা হল, বিয়েবাড়ি দেখে বুঝবেন না বড়লোক আর সাধারণ মধ্যবিত্তের ফারাক। মুছে গেছে তা। খুব অস্পষ্ট যদি কিছু বিভাজন রেখা থেকেও থাকে, তাকে বিস্মৃত করার জন্যে কতদূরই না যেতে পারে এই মধ্যবিত্ত বাঙালি, আমার নিজের চোখে দেখা তেমন একটা ঘটনা বলে আজকের মতো ইতি টানব।

 আমাদের পাড়ারই ছেলে, আমাদের থেকে বছর দশ-বারো বড়। খবরের কাগুজে কায়দায় একটা নাম দিয়ে বন্ধনীতে নাম পরিবর্তিত মার্কা ঢঙ না করে নামটা উহ্য রাখি। বাবার হাতের কাজের ব্যবসা ছেলেও শিখল, দক্ষ হল। এবং বাবা তত তেমন পয়সা করতে পারেনি, ছেলে পারল। আড়ে বহরে ব্যবসা বেশ বেড়ে গেল। জনা পঁচিশ লোক কাজ করে তার কাছে। এবার বিয়ে। এবার বড়লোকি-বিয়ে পাঁচজনকে দেখানোর পালা। বাড়ি থেকেই দেখাশোনা করে পাত্রী পছন্দ করে দিনক্ষণ স্থির হয়ে গেল। নেমন্তন্নও হয়ে গেল, জ্ঞাতি-আত্মীয়-প্রতিবেশীর পরে সমগ্র পাড়াবাসীও নেমন্তন্নে বাদ পড়ল না। দু’দিনই। বউভাতে তো বটেই, এমনকী বরযাত্রীর সঙ্গেও, সেভাবেই পাত্রীপক্ষর সঙ্গে কড়ার হয়েছে। বিয়ের সন্ধেটা আমাদের পাড়াবাসীর একটা অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত, যখন দেখলাম আমাদের পাড়ার সেই ছেলে, বরবেশে একটি সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়ি চড়ে, আলোকসজ্জার সঙ্গে সানাইয়ের সঙ্গে বিউগল বাজাতে বাজাতে সহাস্যমুখে চলিলেন যুদ্ধজয়, মাপ করবেন, কনেজয় করতে। এতেও ষোলকলা পূর্ণ হল না তার। পাত্রীপক্ষের “বিয়ে”-বাড়ির একটা মোড় আগে, ঘোড়াকে গাড়ি থেকে খুলে বররূপী সেই ছেলেটিকে ঘোড়ার পিঠে চাপিয়ে দেওয়া হল।

 দু’ সপ্তাহ ধরে বিয়েবাড়ির হট্টমেলায় ঘোরালাম আপনাকে। কেমন লাগলো? কোন বিয়েবাড়িটা মনে বেশি ধরল?

আগের পর্ব:

ছেঁড়া ঘুড়ি, রঙিন বল