অ্যালবার্ট অশোক

উইনস্টন চার্চিল Sir Winston Spencer Churchill (১৮৭৪-১৯৬৫) জীবনের এক কঠিন সময়ে ছবি আঁকতে এসেছিলেন। উইনস্টন চার্চিল, একজন রাজনীতিবিদ, সেনা প্রধান, লেখক ও ১৯৪০ থেকে ৪৫ ব্রিটিশ যুক্তরাস্ট্রের প্রধান মন্ত্রী। ভারত সম্পর্কে তার তৎকালীন মনোভাব ভাল ছিলনা। কিন্তু তার নিজের জায়গাতে, তার বেড়ে উঠার সময় তিনি ছবি আঁকা শুরু করেছিলেন। ১৯১৫তে তার ৪১ বছর বয়েস।

ব্রিটিশ সেনা প্রধানের ভূমিকায় তার ব্যর্থতা চূড়ান্ত। During the summer of 1915, Churchill’s spirits were at their lowest ebb in the aftermath of the disastrous troop landings in the Dardanelles at Gallipoli. এডমিরাল পদ থেকে নিজেকে বরখাস্ত করতে বাধ্য হয়েছেন। জীবনের ভাটায় পড়ে গেছেন। তার আর রাজশক্তি নেই। তার বৌ ক্লিমেনটাইন (Clementine) তখন ভেবেছিল, উইনস্টন বুঝি এবার দুঃখে আত্মহত্যা করবে। বেগতিক দেখে, সারিতে (Surrey), ইংল্যান্ডের দক্ষিন পূর্ব একটা ছোট জায়গায়, কৃষিকাজের গোলাবাড়িতে আশ্রয় নেন।

ওখানে মাঝে মধ্যে তার ভাই জ্যাক ও তার ভাইয়ের বৌ গুনি নাম, (Jack and his wife Gwendeline (known as ‘Goonie’),) তারা রঙ, তুলি, ইজেল নিয়ে ছবি আঁকতে আসত। তারা সুন্দর জলরং চাপিয়ে কাজ করত। শিল্পী গোছের, স্বনাম ধন্য ছিলেন। গুনী একদিন উইনস্টন চার্চিলকে দুঃখী দেখে রঙ তুলি নিয়ে ছবি আঁকতে পীড়াপিড়ি করল। উইনস্টন প্রথম দিন , রঙ এ হাত দিয়েই অভিভূত হয়ে যান। রঙ তুলি তাকে মুগ্ধ করে। এরপর উইনস্টন তার দুঃখের সময় ভুলে কিছুদিন রং নিয়ে মেতে যান। তার কাছে ছবি আঁকা মনে হল আবিষ্কার।

তার বৌকে তখন নিয়মিত রঙ কিনতে গোডালমিং এর (Godalming) বাজারে পাঠাতেন। ঐতা একটা বিখ্যাত বাজার এলাকা। লন্ডনে ফিরে এসে লং একর (Long Acre) থেকে রবারসনের দোকান থেকে(Roberson’s, the artist’s suppliers) , তারপিন, তেল রঙ ক্যানভাস ইত্যাদি নিয়মিত কেনা শুরু করেন ও নিয়মিত ছবি আঁকাতে মশগুল হয়ে যান। শুধু তাই নয় , ন্যাশনাল গ্যালারিতে নিয়মিত গিয়ে সেখানকার মাস্টার পিস পেইন্টিং দাঁড়িয়ে থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দেখতেন।

স্টাডি করতেন। ১৯১৬ সালের মধ্যে একবছরে তিনি একজন শিল্পীতে পরিণত হন। নানা ল্যান্ডস্কেপ, যুদ্ধবিধ্বস্ত দৃশ্য, আত্মপ্রতিকৃতি, এরকম অনেক কিছু তেল রঙয়ে আঁকেন। একসময় তার বৌকে (Clementine) লেখেন “that [painting] will be a great pleasure and resource to me—if I come through all right.”

১৯১৭ সালে, অর্থাৎ ২ বছর পর তার যাবতীয় অবসাদ ও ব্যর্থতার গ্লানি কাটিয়ে তিনি আবার চাঙ্গা হয়ে উঠেন। ১৯১৭তে তিনি আবার মন্ত্রীত্ব পদে (as Minister of Munitions) যোগ দেন। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধ পরের বছর থামলে তিনি, তার পলিটিক্যাল কেরিয়ার নিয়ে নতুন ভাবে ভাবতে শুরু করেন। এবং রঙ তুলি আঁকড়ে ধরেন। রং তুলি তাকে নতুন জীবন দিয়েছে ভাবা শুরু করেন। তিনি এরপর, রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি ছবি চর্চার অন্দর মহলে চলে আসেন। ইমপ্রেসনিস্টদের আলো ছায়ার প্রেমে পড়ে যান। তার ছবিতে ইম্প্রেসনিস্টদের ছায়া বসে যায়।

তার আদর্শের শিল্পী অনেক ছিল, তাদের মধ্যে Joseph Mallord William Turner এরাও ছিলেন। তিনি নিজে নিজেই একা চর্চা করতে পারতেন। তার সম্পদের অভাব ছিলনা। কিন্তু তিনি জানেন, সঠিক গুরু না হলে বিদ্যা মূল্য পায় না। তার সমসাময়িক লন্ডনের শিল্পীদের মধ্যে সুনাম ছিল Sir John Lavery-র। চার্চিলের Cromwell Road এর বাড়ির প্রতিবেশী ছিলেন ল্যাভারি। ১৯১৫তে উইনস্টন স্যার জন ল্যাভারির বাড়িতে বা স্টুডিওতে কাজ শিখতে যেতেন। ল্যাভারির বৌ হাজেল (Hazel) ও ভাল চিত্রকর ছিলেন। ফলে সারা জীবন চার্চিল ও ক্লিমেনটাইন এবং ল্যাভারি ও হাজেল তারা বন্ধু হয়ে গেছিলেন।

এই বন্ধুত্ব এমন পর্যায়ে ছিল, পরবর্তী সময়ে উইন্সটনের রাজনৈতিক উপদেস্টাও ল্যাভারি হয়ে গেছিলেন। Walter Sickert, বলে একজন পেইন্টার, তৎকালীন লন্ডনের বিখ্যাত নাম, ক্লিমেন্টাইনের মাধ্যমে উইনস্টন চার্চিলের সঙ্গে পরিচিত হন, তিনি চার্চিলকে ক্যানভাস তৈরি থেকে অনেক কলাকৌশল অব্ধি শেখান। ওয়ালটার সিকার্ট চার্চিলকে কি করে আলোক চিত্র থেকে নির্ভর করে ছবি আঁকতে হয় তাও শেখান। ফলে উইনস্টন আরো অভিভূত হন পেইন্টিং নিয়ে। Sickert’s tutelage দারুণ ভাবে চার্চিলকে প্রভাবিত করেছিল। চার্চিল এরপর সারাজীবনই সময় বার করে ছবি এঁকেছেন, মৃত্যু অবধি।

উইনস্টনের ২৪ বছর থেকে সাহিত্য দিয়ে জীবন শুরু। (The Story of the Malakand Field Force (1898) and The River War (1899) সারাজীবন প্রচুর লিখেছেন। ভলিউম ভলিউম। একটাই উপন্যাস লিখেছিলেন (only novel, Savrola)। বাকি সবগুলিই তার আত্মকথা মূলক জীবনী। আবেগ তাড়িত, মানব সম্পদের উপর মূল্যায়ন এই ছিল বিষয়। বিশ্বযুদ্ধ ও তার ভাবনার কথা নিয়ে। ১৯৫৩ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার পান তার সাহিত্যের জন্য।