একক ভাবে এক রাষ্ট্রের জনক যিনি, সেই বীর বাঙোলি বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমানের জন্ম শতবর্ষের অনুষ্ঠান ‘বঙ্গবন্ধু কবিতা উৎসব ২০১৯’ আয়োজনে আন্তর্জাতিক বঙ্গবন্ধু কবিতা উৎসব উদযাপন পরিষদ। ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ বুধবার সন্ধ্যায় রবীন্দ্র ওকাকুরা ভবন, সল্টলেকে এই সন্ধ্যা হয়ে উঠল এক অনন্য সন্ধ্যা। প্রধান অতিথি সাহাদাত হোসেন নিপু’র বক্তব্যে উঠে এল বঙ্গবন্ধুর জীবনের নানা কথা।

৭ মার্চের মুজিবের সেই ঐতিহাসিক বক্তৃতাটির কথা। কোটি কোটি শরণার্থীকে স্থান দিয়েছিল সেদিন ভারত। ধর্ম নয়, ভাষার ভিত্তিতে ভারতের সহায়তায় জন্ম হয়েছিল এক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের। গান্ধীজীর আদর্শে পালিত মুজিবের জীবনের স্তম্ভ ছিল ধর্ম নিরপেক্ষতা। তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সামগ্রিকভাবে বাঙালির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, পাশে ছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ীর মতন নেতারা আর ছিল আসাম, ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ সহ সমগ্র ভারতের মানুষ। কবি মৃণাল বসুচৌধুরী স্মরণ করলেন সেই সব দিনের কথা, যখন এক এক করে বিশ্বের এক একটি দেশ নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিচ্ছে।

এছাড়াও বক্তব্য রাখলেন ও কবিতায় মুজিব স্মরণ করলেন কিশোরভারতী পত্রিকার সম্পাদক চুমকি চট্টোপাধ্যায়, কবি অলক চন্দ, জার্মানি থেকে এসেছিলেন সাংবাদিক ও লেখিকা নাজমুন নেসা পিয়ারি যিনি মুজিবের জীবনের নানা কাহিনী জার্মান ভাষায় অনুবাদ করেছেন । উপস্থিত ছিলেন কবি অদিতি বসু রায়, কবি তন্ময় চক্রবর্তী, দীপা দাস, রিনা গিরি, জয়ন্তী সরেন, দেবশ্রী মুখার্জি, সুদীপা রায়। বিশিষ্ট কবি তমাল লাহার হাতে তুলে দেওয়া হল অন্নদাশঙ্কর রায় নামাঙ্কিত পুরস্কার। কবি ও আবৃত্তিকারেরা কবিতায় স্মরণ করলেন বঙ্গবন্ধুকে। পরিবেশিত হল গান ও কবিতার কোলাজ। দুই বাংলা মিলে স্মরণ করল পৃথিবীর অন্যতম এক শ্রেষ্ঠ বাঙালিকে। কোথাও যেন মুছে গেল কাঁটাতারের বেড়া। সমাপ্তি সঙ্গীতে মণিরত্নার গাওয়া সুর কানে বাজতে থাকল– ‘সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে’।

উৎসবের আহ্বায়ক কবি রিনা গিরি, কবি ইমরোজ সোহেল, সুদীপা রায়, সদস্য সচিব কবি তৌহিদুল ইসলাম কনক, প্রধান উপদেষ্টা শিশুসাহিত্যিক, রফিকুল হক দাদুভাই। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন স্বর্ণাভ রায়।

নিজস্ব প্রতিনিধি