লোকগাথা থেকে সাহিত্যের পাতা- কল্পনার সিঁড়ি বেয়ে তারা আসে৷তারা মানুষ নয়, পরি৷ তাদের নিয়ে নানা কথা, নানাindranil গল্প৷ তাদের খানিকটা ঘিরে আছে রহস্য৷বিজ্ঞান তাদের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে পারে না, অস্বীকারও করে না৷ তারা এমনই৷ কল্পদুনিয়া রাঙিয়ে তোলা আশ্চর্য এক প্রাণি৷ লিখছেন ইন্দ্রনীল বক্সি

                                  

 

 

কী এক আশ্চর্য প্রাণী , ছোট্ট, মিষ্টি ,স্বচ্ছ ডানাওয়ালা ,অদ্ভুত যাদু শক্তি তাদের । হাতের তারা লাগানো ছড়ি ছুঁইয়ে ভুলিয়ে দিতে পারে সব দুঃখ-কষ্ট-অভাব । আবার পাথর করে দিতে পারে মুহুর্তে । না এরা মানুষ না দেবদূত , এরা একদম ভিন্ন প্রজাতির … আমাদের জানা , শৈশব থেকে শুনে আসা ঘুম পাড়ানি গল্পের স্মৃতির পরিরা কিন্তু মোটামুটি এরকমই তাই না ?

Angel-1পৃথিবীর সব সংস্কৃতিতে ,লোকগাথায় ,পুরাণে পরিদের উল্ল্যেখ রয়েছ সেই কবে থেকেই । বহু প্রাচীন গুহাচিত্রে পাওয়া গেছে পরি বা পরির মতোই ডান যুক্ত প্রাণীর চিত্র । প্রাচীন গ্রীকদের ছিলো ‘চেরুবিম’ , চিনে ছিলো ‘উরেন’ , পার্সিয়ান দের ছিলো ‘পেরী’ , সম্ভবত এই ফার্সি ‘পেরী’ থেকেই আমাদের ‘পরি’ শব্দের জন্ম -যেমন আরও অনেক ফার্সি শব্দ রয়েছে বাংলায় ।

ইসলামিক সংস্কৃতিতে পরির অস্তিত্ব সেভাবে না থাকলেও রয়েছে সমহগোত্রীয় ‘জ্বীন’ , জ্বীন কিন্তু পরিদের থেকে আলাদা ! এদের মুলত নঙর্থক দৃষ্টীতেই দেখা হয় , মনে করা হয় এরা শয়তানের প্রতিনিধি । এদের  মধ্যে সবথেকে শক্তিশালী যারা তাদের বলা হয় ‘নারহা’ –এরা মুলত পুরুষ হলেও মেয়েও হয় কিছু বলে কথিত । রয়েছে ভালো জ্বীনও ,ভালো জ্বীনদের তুর্কিশে বলা হয় ‘পিরি’ বা ‘পেরী’  যারা শুধু মেয়েই হয়।

পরিদের নিয়ে খুব হৈচৈ হয় পাশ্চাত্য দেশগুলোতেও । পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে পরি বা ‘ ফেয়ারি’ র একটা বড় জায়গা রয়েছে । মনে করা হয় ফেয়ারিরা অতীব সুন্দর, ডানাযুক্ত ঐন্দ্রজালিক ক্ষমতাযুক্ত এক প্রজাতি যারাpic 1 প্রাকৃতিকভাবেই আমাদের আশেপাশে রয়েছে , কিন্তু গোপনে । তারা হয় স্বর্গ প্রত্যাখ্যাত কোন দেবদুত ,বা মৃত মানুষের আত্মা ! যারা বসবাস করে কোন মানব বর্জিত দ্বীপে বা গোপন স্থানে।

যুগে যুগে পরিরা স্থান পেয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষার সাহিত্যেও ।  আমাদের রূপকথা হোক বা উইলিয়াম শেক্সপিয়র ,সাহিত্যে পরিদের অস্তিত্ব  রয়েছে ভালো পরিমাণেই ।pic 2

পরিদের উল্ল্যেখ মুলত ছোটদের গল্পে থাকে , কিন্তু এই রহস্যময় প্রানীদের অস্তিত্ব রয়েছে এমন বিশ্বাস করার লোক এই গ্রহে কম নেই । এই বিশ্বাসের পিছনে রয়েছে হাজার হাজার বছরের বহন করে চলা সাংস্কৃতিক ধারণা , কিছু চাক্ষুস অভিজ্ঞতা , ছবি সহ কিছু প্রমান । যেমন ইংল্যান্ডেরমিরর পত্রিকায় প্রকাশিত খবর ,দুই সন্তানের মা লিসা ওয়াইল্ডগুস একদিন তাঁর নর্থামটনের বাড়ির কাছে ব্লু-বেল গাছের ও ফুলের ছবি তুলছিলেন , সেই সময় ঘটনাচক্রে তিনি একটি ছবিতে একটি আশ্চর্য উড়ন্ত ছোট্ট প্রানীর ছবি তুলে ফেলেন , পরে সেটিকে বড় করে দেখার পর অবাক হয়ে যান , বড় করার পর দেখা যায় সেটি একটি ছোট্ট সোনালি চুলের  উড়ন্ত মেয়ের ছবি !

এমনকি ডার্বি সায়ার এর গ্রামাঞ্চলে এক বাগানে নাকি পাওয়া গেছে একটি ৮ ইঞ্চি লম্বা মমিতে রূপান্তরিত পরির দেহ । সেটির শরীরে রয়েছে চামড়া , মাথায় রয়েছে উজ্জ্বল লাল চুল , দাঁত এবং ডানা ! এন্থ্রেপোলজিস্ট এবং ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা পরিক্ষা করে দেখেছে সেই দেহ সত্যিই একটি আসল মৃতদেহ ।  এক্স রে তে দেখা গেছে দেহটির  কংকাল অনেকাংশেই মানবশিশুর মতোই , হাড় পাখির হাড়ের মতো হাল্কা । এবং আরও একটি ব্যাপার দেখা গেছে দেহটিতে , সেটিতে কোনো প্রজনন অঙ্গ নেই যা সাধারণত স্তন্যপায়ী প্রাণীদের থাকে ।

পরিদের অস্তিত্ব বিজ্ঞান সেভাবে এখনও না মানলেও বিজ্ঞান তাদের অস্তিত্বহীনতাও প্রমান করতে পারেনি । পরিদের অস্তিত্ব বিশ্বাস যারা করে তারা একটি বিতর্ক তুলেছে – ইলেক্ট্রনের অস্তিত্বও আমরা দেখতে পাইনা অথচ বিশ্বাস করি ,কিন্তু পরিদের করিনা কেন ?

পরিদের অস্তিত্ব আছে কি নেই ,এর বিতর্ক চলবে । তবে এটুকু আমরা নিশ্চিত জানি এই জগত আশ্চর্য রহস্যময় , তার খুব সামান্য অংশই আমরা আবিষ্কার করতে পেরেছি ,ভেদ করতে পেরেছি । অনাবিষ্কৃত অঞ্চলে না জানি রয়েছে কত অজানা তথ্য , আশ্চর্য গল্পpic 3 । কে না জানে প্রকৃতি চিরকাল আমাদের চমকে দিয়েছে তার অভিনবত্ব, আশ্চর্যতা দিয়ে ।

কে জানে হয়তো রয়েছে তারা আমার আপনার আশেপাশেই ! হঠাৎ একটা আলোর বিন্দুর মতো অন্ধকারেএক প্রান্ত থেকে উড়ে বাগানের আর এক প্রান্তে হারিয়ে যাবে ! হাজার খুঁজেও আর পাওয়া যাবেনা …কিংবা কোন মানুষ যায় না এমন দ্বীপে সত্যিই রয়েছে পরিদের রাজ্য ! একটা রাজ্যে তো চিরকালই তারা বাস করে ! …আমাদের শিশু মনের গহন রাজ্যে, যেখানে আরও কত ভূত ,প্রেত , দৈত্য দানোর সঙ্গে সেই কবে থেকে দিব্যি রয়েছে মিষ্টি পরিরা ! কিন্তু এখন আর তারা আসবে না আমাদের সামনে , আমরা যে বড় হয়ে গেছি , পরিরা  ছোটদেরই পছন্দ করে যে ! … ইস! ভাবুন তো !যদি কোন পরি এসে ছুঁইয়ে দেয় তার তারা-কাঠি আমার –আপনার দৈনিক ক্লেদযুক্ত ‘বড়দের’ দিনযাপনে ! কি ভালই না হোতো …