অ্যালবার্ট অশোক

১৮৫১ সাল থেকে কোন বড় মনিষী বা বিখ্যাত ব্যক্তি মারা গেলে The New York Times-এ Overlooked বলে একটা প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এতদিন সেখানে সাদা সাহেবরাই স্থান পেত। গত বছর, সেখানে ভারতীয় মহিলা শিল্পী অমৃতা শেরগিলকে প্রকাশ করা হয়। ভারতীয় নারীকে আমেরিকার বড় খবর মাধ্যমে প্রকাশ একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এতটাই তাৎপর্যপূর্ণ ভারতীয়রা এখনও সেই ভাবে অমৃতাকে দেখেনা। কারণ কি ভারতীয়দের সচেতনতা কম? অজ্ঞ! বিস্মিত হতে হয়।

তাকে বলা হয় ইন্ডিয়ার ফ্রিডা কাহলো, ‘Indian Frida Kahlo’. ইউনেস্কো Unesco, ইউনাইটেড নেশনের সাংস্কৃতিক সংগঠন, অমৃতা শের-গিলকে সম্মান জানিয়ে তার জন্মের ১০০ বছর পুর্তিতে, ২০১৩ সালে ঘোষণা করে the international year of Amrita Sher-Gil. এগুলি খুব বিরল সম্মান।

বহু মানুষ বুঝেননা, ছবি কি? কিন্তু তাদের যদি এই কথা বলা হয় তারা অপমানিত বোধ করেন। তাদের ধারণা, ছবি এঁকেছে শিল্পী দেখতে পাচ্ছি, এ আবার বোঝাবুঝির কি আছে? ছবি যদি বোঝাবুঝির না হত, তাহলে কোনও ছবির স্থান মিউজিয়ামে আর কোনও ছবির স্থান সাধারণের ঘরের দেওয়ালে হত না। তাছাড়া আর্থিক মূল্যও লাখ লাখ, কোটি কোটি হত না। শিল্পী তো লাখ লাখ আছে। কিন্তু দু-একজনের ছবিই বিখ্যাত হয়।

অমৃতার ছবিতে তার জীবনের উপলব্ধি, সময়, স্থান কাল পাত্রপাত্রী আছে। যা এক শিল্পীজীবনের চরম বিষয়। পটুয়াদের মতো মূর্তি গড়া বা দেওয়ালের ক্যালেন্ডার নয়। অমৃতা ভারতের অগ্রদূত শিল্পী। ১৯৩০ সাল নাগাদ, মহিলাদের প্রতিদিনের জনজীবন ছিল তাঁর ছবির বিষয়। সেখানে তার তুলি রং মহিলাদের জীবনে একাকীত্ব ও নিরাশার বা হতাশার ছবি প্রকাশ করে গেছেন। তিনি মহিলাদের বাজারে যাওয়া, বিয়েবাড়িতে, ঘরে, কখনও মহিলা অন্য মহিলার সঙ্গে একাত্মবোধের ছবি, তাঁদের মন মেজাজ খুশি এসব তিনি এঁকে গেছেন যা সেই সময়ে অন্য কারুর ছবিতে দেখা যায়নি।

থ্রি গার্লস “Three Girls” তিনটি মেয়ের বিষণ্ণতা মাখা ছবিটা দেখুন। লাল রঙের সঙ্গে বাদামী রঙের, বা তাঁর রঙের ব্যবহার দেখলে মুগ্ধ হতে হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে ১৯১৩ সালের ৩০ জানুয়ারি, বুদাপেস্টে অমৃতার জন্ম হয়। তার মা হাংগারিয়ান ইহুদী এক অপেরার গায়িকা। Hungarian-Jewish opera singer Marie Antoinette Gottesmann) নাম ম্যারি। তার বাবা উমরাও সিং শেরগিল মাঝিথা (Umrao Singh Sher-Gil Majithia, a Sikh aristocrat and a scholar of Persian and Sanskrit).

পাঞ্জাবি শিখ বনেদী পরিবারের, পার্সী ও সংস্কৃত ভাষার পন্ডিত। একজন আলোকচিত্রী। উত্তর ভারতের সিমলাতে তাদের বাড়ি। অমৃতা ৮ বছর বয়সে ছবি আঁকা শুরু করেন। একটু বিদ্রোহী স্বভাবের ছিলেন। কনভেন্ট স্কুলে পড়ার সময় স্কুল থেকে তাঁকে বের করে দেওয়া হয়। কারণ তিনি নিজেকে নিরীশ্বরবাদী ভাবতেন। এরপর তার চলে বোহেমিয়া জীবন। ১৬ বছর বয়সে প্যারিসে চলে যান ও ওইখানে আর্ট নিয়ে পড়াশুনা করেন the Académie de la Grande Chaumière প্রতিষ্ঠানে ও পরে the École des Beaux-Arts-এ।

১৯৩৩ সালে তার ১৯৩২ সালের একটি আঁকা “Young Girls” গোল্ড মেডাল পায় প্যারিস শাঁলুতে Paris Salonl ছবিটাতে অমৃতা তার বোনকে এঁকেছিল। পরনে ইউরোপিয়ান ড্রেস। মুখে আত্মপ্রত্যয়ের ভাব।

Amrita Sher-Gil in Self-Portrait as Tahitian. Photo: Estate of Umrao Singh Sher-Gil/Photoink. পল গ্যঁগার (French post-Impressionist Paul Gauguin) অনেক প্রভাব অমৃতার ছবিতে আছে যেমন “Self Portrait as Tahitian” তার limitless libido was part of the same life-force that animated her paintings। ২০০৭ সালে তার একটা ছবি Tate Modern, London প্রদর্শনী থেকে $1.6 million ষোল লাখ ডলারে বিক্রি হয়।

অমৃতার সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক অনেক নারী পুরুষের সঙ্গে ছিল, যেমন the painter Marie Louise Chassany, and some art critics. এমনকি তার ভাইপো শিল্পী ভিবান সুন্দরমের সঙ্গেও। যৌনতার প্রতিমূর্তি হিসাবে তিনি নিজেকে প্রকাশ করতেন। প্রেম প্রণয় ছিল তার জীবনের উৎস। তার পুরুষ বন্ধুও অনেক ছিল। Sher-Gil had many lovers, including, perhaps, India’s future prime minister Jawaharlal Nehru. According to one contemporary, she sometimes entertained up to seven a day, with two-hour intervals in between trysts. The British journalist Malcolm Muggeridge spent a week with her that reportedly reduced him to a “limp rag”. “I could not cope” he later recalled.

তাঁর এক ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে গর্ভবতী হয়ে পড়ে। পরে তার সঙ্গে বিয়ে হয়। নাম Victor Egan, ১৯৩৮ সালে। তার সেই গর্ভ ফেলে দেওয়া হয়। ১৯৩৯ সালে গোরখপুর জেলার সারায়া গ্রামে Saraya কিছু দিন বিবাহিত জীবন কাটিয়ে লাহোর চলে যান স্বামী স্ত্রী। লাহোর তখন অবিভক্ত ভারতের উজ্জ্বল শহর। সেখানে ১৯৪১ সালে তার একক ছবির প্রদর্শনীর আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর দ্বিতীয় গর্ভপাতের সময় স্বামীর হাতেই মারা যান। হয়ত গর্ভপাতের সময় dysentery or peritonitis হয়ে থাকবে। Sher-Gil died on Dec. 5, 1941. ২৮ বছর মাত্র বয়েস তার তখন। The cause was believed to be complications from a second, failed abortion performed by Eganl.

Sleeping beauty: Sher-Gil’s erotically charged ‘Sleep’, which she painted in 1933, depicts her younger sister Indira

এই ২৮ বছর জীবনে, তিনি প্রচুর ছবি এঁকে যান ও ভারতকে এক আধুনিক ভারতে জন্ম দেন। তিনি নিজে তার ছবি সম্পর্কে এত দৃড় বিশ্বাসী ছিলেন, তিনি বলেন, ‘Europe belongs to Picasso, Matisse and Braque and many others. India belongs only to me.”

আজকের দিনে ছবি ভাস্কর্যের ছাত্রছাত্রীদের তাঁর জীবন ও ছবিকে জানা আবশ্যিক। অমৃতা শের গিলের সবচেয়ে বড় অবদান, মুগল মিনিয়েচারের যুগ ভেঙে, তিনি পশ্চিমী শিল্পকে ভারতীয় সংস্কৃতিতে সার্থক মিশ্রণ করে যান।