পাপড়ি গুহ নিয়োগী
পাপড়ি গুহ নিয়োগী

বহুদিন ধরেই মদ গাঁজা সিগারেট জুয়ার জমজমাট আড্ডাস্থল ছিল এই পোড়োবাড়িটি। রাত হলেই চলে আসতো নিশিকন্যার দল। একদিন প্রশাসন থেকেই ভেঙে দেওয়া হল এই এলাকার আড্ডাটাকে। গ্রেপ্তার হল শুধু রাজীব, আর সবাই পালালো। রাজীব একজন বর্তমান প্রজন্মের কবি। সেই রাজীবই বহুদিন পর আমাদের নতুন আড্ডাস্থলে আসছে। ওকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর আমাদের আড্ডাস্থল শূন্যতায় ভরে গিয়েছিল।
একদিন বোল্টু বলেছিল, ‘জানিস কালু, রাজীব শুধু আমার আড্ডার সঙ্গী ছিল না। ওর গায়ে আমি আমার বাবার গায়ের গন্ধ পেতাম, স্পর্শে মায়ের আঙুল। খুব ভরসা করতাম ওকে।’
–তবু কেন পালালে ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে ছেড়ে ?
— নিজেকে বাঁচাতে, আর কিছু না রে।


পরদিন রাজীব এলো আড্ডায়। এসেই ‘বোল্টু বোল্টু’ ক’রে ডাকছে। অনেকক্ষণ পর কাঁচুমাচু মুখ ক’রে এসে দাঁড়াল বোল্টু।
— কী রে বন্ধু, কেমন আছিস, বল?
— এই তো চলে যাচ্ছে, আমাকে ক্ষমা কর, বন্ধু।
— কেন বলতো?
— সেইদিন সবাই আমরা তোকে ফেলে রেখে পালিয়েছি।
— যদি তোরা না পালাতি আমার জানা হতো না, অনেক কিছু।
— মানে?
— তোরা আমাকে অনেক বড় ক’রে দিয়েছিস, বন্ধু।
— কী ক’রে?
— এভাবেও এগিয়ে দেওয়া যায়।
— ঠিক করে বল?
— প্রতিটা বিশ্বাসঘাতকই আমাকে একটু একটু ক’রে বড় ক’রে তুলেছে। তোরাই আমার প্রকৃত বন্ধু, আমি তোদের ভুলবো না।