পয়লা বৈশাখ বলতেই প্রথম যে দুটো কথা মনে পড়ে তা হল, মায়ের হাতের পায়েস, আর নতুন জামা৷ পুজোর সময় অনেকগুলো করে জামা হত৷ কিন্তু পয়লা বৈশাখের সময় একটা করেই সেট৷ কিন্তু তার জন্যও অনেকগুলো দিনের আনন্দ৷ তখন তো রেডিমেড পোশাকের থেকে শার্ট বা প্যান্টের পিসই ছিল বেশি৷ তো পিসগুলো যেদিন কেনা হত, সেদিন তো এক আনন্দ৷ তারপর বানাতে দেওয়া৷ যেদিন ডেলিভারি দিত সেদিন আর এক আনন্দ৷ তারপর পয়লাতে তো সেই পোশাক পরা৷ খাবারদাবেরও পয়লা মানেই স্পেশাল কিছু৷ ব্রেকফাস্টে লুচি তো হবেই, আর পাঁঠার মাংস মাস্ট৷ আর ছিল হালখাতা৷ শিয়ালদহে যখন থাকতাম তখন একটা দোকানে জামা কাপড় করাতে দিতাম, সেখানে বিকালে হালখাতায় যেতাম৷ সেখানে কোল্ড ড্রিঙ্ক দিত, তখন তো কোল্ড ড্রিঙ্ক মানে বিশাল ব্যাপার৷ এগুলোই খুব আনন্দের ছিল৷ এখন তো পয়লা বৈশাখ মানেই অনুষ্ঠান৷ আজও অনুষ্ঠান আছে৷

তবে এখন আমার মনে হয়, পয়লা বৈশাখ অনেকটাই লোক দেখানো হয়ে গেছে৷ ক’জনই বা মনে করে নতুন বছরটা যে ১৪২২ তা বলতে পারে৷ গতবছর পয়লা বৈশাখ বাংলাদেশে গিয়েছিলাম৷ সে এক অভিজ্ঞতা৷ রাস্তা ঘাট সব প্রায় বন্ধ, সবাই নতুন জামা পরে উৎসবে মেতেছেন, ঢাকা শহরে বহু মানুষ আনন্দ করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন৷ সেই উৎসাহ, উদ্দীপনার ২ শতাংশও এখানে তো দেখিই না৷ সেদিন দেখে সত্যিই আফশোস হয়েছিল যে আমাদের এখানে নববর্ষ পালনের আগ্রহ আর তেমন নেই৷ সব বোধহয় ৩১ ডিসেম্বরের হাতেই চলে গেছে৷